আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় মাজার-ই-শরীফে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৭ জন নিহত ও ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে অঞ্চলটি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাজার-ই-শরীফ শহরের কাছাকাছি এবং এটি মাটির প্রায় ২৮ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের সময় মাজার-ই-শরীফের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। রাজধানী কাবুল থেকেও ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর প্রথম দিকে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্বল অবকাঠামো ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা উদ্ধার তৎপরতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক গ্রামে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মাত্র দুই মাস আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই হাজার দুই শ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালে পশ্চিম হেরাত অঞ্চলেও আরেকটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন ও হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধসে পড়ে।
২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগানিস্তান প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটেও ভুগছে। বিদেশি সহায়তা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় দেশটির পুনর্গঠন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় চরম দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, খরা, ব্যাংকিং খাতের সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শরণার্থী প্রত্যাবাসনের কারণে আফগানিস্তান এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলটি ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে আফগানিস্তানে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে থাকে।


