যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচির তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের ভ্রমণকারীদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জামানত দিতে হতে পারে। এই জামানতের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি–১ বা বি–২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় এই বন্ড জমা দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে।
নতুন নীতিমালার আওতায় বন্ড প্রদানকারী ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে.গভের মাধ্যমে শর্তে সম্মতি জানাতে হবে। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই ব্যবস্থা একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পর এখন তালিকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিশ্চিত হতে চায় যে ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাবেন এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করবেন না। বিশেষ করে সাময়িক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ওভারস্টে বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও অস্থায়ী কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
আন্তর্জাতিকভাবে ভিসার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চাওয়া হলেও ফেরতযোগ্য জামানত ব্যবস্থার নজির তুলনামূলকভাবে বিরল। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ নতুন করে যুক্ত হওয়া বেশির ভাগ দেশের ক্ষেত্রে এই নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তালিকায় আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৩৮টি দেশ এই ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো—
- আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- বেনিন (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- ভুটান (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- কাবো ভার্দে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- কোট দিভোয়ার (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- কিউবা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- জিবুতি (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- ফিজি (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- গ্যাবন (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর ২০২৫)
- গিনি (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- গিনি-বিসাউ (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- মালাউই (২০ আগস্ট ২০২৫)
- মৌরিতানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫)
- নামিবিয়া (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- নেপাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- সাও টোমে ও প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর ২০২৫)
- সেনেগাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫)
- টোগো (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি ২০২৬)
- টুভালু (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- উগান্ডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
- জাম্বিয়া (২০ আগস্ট ২০২৫)
- জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)


