থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। সোমবার ভোরে কম্বোডিয়ার ভেতর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় থাই সামরিক বাহিনী। এতে দুই দেশের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তিচুক্তি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাত্র দুই মাস আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী এ দুই দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে কুয়ালালামপুরে সম্প্রসারিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, সোমবার ভোর থেকে সীমান্তজুড়ে গুলিবিনিময় ও বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়তে থাকায় দুই দেশই একে অপরকে সংঘাত শুরুর জন্য দায়ী করেছে। কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার মধ্যে থাইল্যান্ড সমঝোতা বাস্তবায়ন স্থগিত করার পর পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নেয়।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, কম্বোডিয়ার সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে প্রতিশোধ হিসেবে। স্থানীয় সময় সকালে কম্বোডিয়ার আর্টিলারি হামলায় এক থাই সেনা নিহত ও দুইজন আহত হন। এরপর পাল্টা হামলা চালানো হয়। থাই মেজর জেনারেল উইন্থাই সুবারি বলেন, চং আন মা পাস এলাকায় কম্বোডিয়ার অস্ত্র–সমর্থনকারী অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই স্থান থেকে মর্টার ছুড়ে আনুপং ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৪ মিনিটে থাই বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বলছে, বহুদিন ধরে থাই পক্ষ বিভিন্ন উসকানিমূলক আচরণ করে আসছিল।
সংঘাত তীব্র হওয়ায় সীমান্তবর্তী থাই শহরগুলো থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরানোর সময় আগে থেকে অসুস্থ এক বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের সীমান্তযুদ্ধে বহু মানুষ নিহত হন এবং প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে ২৮ জুলাই প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেন। অক্টোবরের শেষে কুয়ালালামপুরে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় সম্প্রসারিত শান্তিচুক্তি। তবে চুক্তির দুই সপ্তাহের মধ্যেই সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হলে এর বাস্তবায়ন থমকায়।
সীমান্ত পরিস্থিতি বাড়তি উত্তেজনার মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের শান্তিচুক্তি টিকিয়ে রাখতে জরুরি কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


