দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেই মায়ের কাছে ছুটে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গণসংবর্ধনা মঞ্চ ত্যাগ করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।
তারেক রহমান হাসপাতালে যাবেন—এমন খবরে বিকেল থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে থাকে। ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনা মঞ্চের কাছে যেতে না পেরে অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমানকে এক নজর দেখতেই তারা সেখানে জড়ো হন।
হাসপাতালের সামনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেককে দলের পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে জার্সি পরতে দেখা যায়। কারও মাথায় দলীয় লোগো সংবলিত ক্যাপ, কপালে ব্যান্ড। অনেকের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ দলীয় লোগোযুক্ত ব্যাজ পরেছিলেন।
নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
এর আগে সকালে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ সময় তিনি নেতাদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশলবিনিময় করেন এবং উপস্থিত সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি জুতা খুলে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন।
দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি বিমানবন্দরের সামনে থেকে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে ওঠেন। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ৩০০ ফিট এলাকার গণসংবর্ধনা মঞ্চের কাছে পৌঁছান তিনি। সে হিসাবে বিমানবন্দর থেকে মঞ্চে পৌঁছাতে তার সময় লাগে প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা।


