দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরছেন স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই প্রত্যাবর্তনের খবর দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা Agence France-Presse জানায়, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালে রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং তখন থেকেই লন্ডনে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছেন।
এএফপির প্রতিবেদনে তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী **খালেদা জিয়া**র শারীরিক অবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেত্রী গত নভেম্বরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব কার্যত তারেক রহমানের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে বলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে **শেখ হাসিনা**র দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এর পরপরই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সবচেয়ে গুরুতর মামলার রায় বাতিল হয়। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় অনুপস্থিতিতে দেওয়া যাবজ্জীবন দণ্ড তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এএফপিকে বলেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলের জন্য একটি স্মরণীয় দিন হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানায়, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির দাবি, লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় জড়ো হতে পারেন। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই প্রত্যাবর্তন একটি নির্ধারক রাজনৈতিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা Reuters তাদের প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সংবেদনশীল নির্বাচনী সময় অতিক্রম করছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচন পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানায়, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর তারেক রহমান লন্ডন থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছে। দীর্ঘ অস্থিরতার পর এই প্রত্যাবর্তন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের বিশ্লেষণ।


