সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণের অনুমতি পেয়েও শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসছে না। অপারেটর প্রতিষ্ঠান নিজেই স্লট বাতিলের আবেদন করায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জার্মানভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ তাদের স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে পূর্বে অনুমোদিত স্লট প্রত্যাহারের আবেদন করেছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে অপারেটর—বা বিএনপির পক্ষ থেকে—স্লট বাতিলের কারণ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর আগে শেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে এবং রাত ৯টার দিকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিমানটি ছিল বোমবার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০৪ মডেলের একটি লং-রেঞ্জ মেডিকেল ইভাকুয়েশন জেট, যা কাতার সরকারের সহায়তায় এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
চ্যালেঞ্জার ৬০৪ দূরপাল্লার রোগী পরিবহনে নির্ভরযোগ্য হওয়ায় ঢাকা–লন্ডন ট্রান্সফারের জন্য এটিকে অত্যন্ত উপযোগী ধরা হয়েছিল। কিন্তু অপারেটরের আবেদনেই পুরো পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়।
খালেদা জিয়া দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর স্বাস্থ্যগত অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ যাত্রা নিয়ে বিভিন্ন সময় নতুন তারিখ জানানো হলেও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে আসছিল। এ অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না–আসার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।


