ধর্মের নামে রাজনৈতিক প্রতারণা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্মব্যবসায়ীরা মানুষের সহজ আবেগকে ব্যবহার করে প্রতারণা করছে। তাঁর ভাষায়, তারা শুধু বলে কিছু নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাত নিশ্চিত; কিন্তু মানুষের বাস্তব জীবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও চলমান সংকট নিয়ে কোনো কথা বলে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী ধর্মের নামে ‘ট্যাবলেট বিক্রি’ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং তাদের মুখোশ এখন উন্মোচিত।
বিএনপি নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ‘মুখোশ গণতন্ত্র’ দেখিয়ে ভেতরে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করা থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন—সবই অগণতান্ত্রিক শাসনের নজির হয়ে আছে। তাঁর দাবিতে, এসব কর্মকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্য একদলীয় শাসনের উদাহরণ।
দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কী করবে তা সহজ ভাষায় জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনগণের চাহিদা পূরণ করাই দলের দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রতারণা করতে চায় না; বরং দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, কল্যাণ ও সুস্পষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিএনপির অতীত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় পদ্ধতিতে উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাপগুলো বিএনপির হাত ধরেই এসেছে। তিনি জানান, বিদেশি কিছু লেখক-বিশ্লেষক দেশের বাস্তবতা না জেনে মন্তব্য করেন, যা দায়িত্বহীন আচরণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ, গালিগালাজ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত চরিত্র হননের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন ‘পলিটিক্যাল ক্যারেক্টর অ্যাসাসিনেশন’ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যমেও এর প্রতিফলন পাওয়া যায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন শাখা ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা, যাদের মধ্যে হাবিব উন নবী খান সোহেল, জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডা. মাহদী আমিন, আমিনুল হক, আবদুল মোনায়েম মুন্না, এসএম জিলানী, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও নিপুন রায় চৌধুরীসহ অনেকে।


