রাজশাহীর তানোর উপজেলায় দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারে চলছে টানা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিটের ২১ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পরও বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি উদ্ধারকারী দল। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের একটি সরু গর্তে পড়ে শিশুটি প্রায় ৩৫ ফুট নিচে আটকে যায়।
শিশুটির বাবা রাকিবুল ইসলাম জানান, পরিবারের অগোচরে খেলার সময় সাজিদ হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রথমিক উদ্ধার প্রচেষ্টায় মাটি গর্তে পড়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম সকালে জানান, শিশুকে জীবিত রাখার জন্য পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্কেভেটর দিয়ে খনন কাজ শেষ হয়েছে। আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি যেন তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়।”
স্থানীয়রা জানান, জমির মালিক কছির উদ্দিন এক বছর আগে সেচের জন্য সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেছিলেন। ৩৫ ফুট পর্যন্ত বোরিং করার পর পানি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গর্তটি দীর্ঘদিন ধরেই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। বুধবার শিশুটির মা মাঠে ধানের খড় তুলতে গেলে সাজিদ খেলতে গিয়ে ওই গর্তে পড়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে গ্রামবাসী, স্বজন ও আশপাশের মানুষ উদ্বেগ নিয়ে পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছেন। শিশুটির মায়ের কান্না ও আর্তনাদের এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে জীবিত ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


