অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। বুধবার সন্ধ্যায় তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম জানান, বিকেল ৫টার দিকে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সন্ধ্যা সোয়া ৬টার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা তাদের পদত্যাগ গ্রহণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুই উপদেষ্টার অবদানকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তারা দেশে গণতন্ত্রের উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে রেখেছ। তোমাদের অবদান জাতি স্মরণ রাখবে।” তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি রূপান্তর, ভবিষ্যতে তাদের আরও বড় অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
দুই তরুণ উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনকালে অর্জিত অভিজ্ঞতা যেন দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজে লাগে। তিনি তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের কামনা করেন এবং বলেন, “এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ, তা জাতি কখনো ভুলবে না।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাদের পদত্যাগ কার্যকর হবে। তিনি বলেন, “আমি যতটুকু জানি, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পদত্যাগ কার্যকর হবে।” নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন জায়গা পান। এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম প্রথমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান। আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান। মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন এবং পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির নেতৃত্বে যুক্ত হলে উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়। পরে দায়িত্বের পরিবর্তনে আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান।


