পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন। একই দিনে পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। আদালত ও মামলার সূত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫-এ শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সন্তানের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালে শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির মামলায় ২৯ জন, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ আসামির মামলায় ৩২ জন এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ আসামির মামলায় ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
শেখ হাসিনার পরিবারের বাইরে এসব মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য কবির আল আসাদ, সদস্য তন্ময় দাস, সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন। তাঁদের মধ্যে কেবল মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কারাগারে আটক আছেন।
গত ১৭ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়ে খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। পরবর্তী সময়ে ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ আরও চারজনকে যুক্ত করে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া পরে পৃথক মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। একইভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সর্বোচ্চ সরকারি পদে থাকার সময়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কে ছয়টি প্লট অনিয়ম করে বরাদ্দ নেন। এসব বরাদ্দে অসত্ উদ্দেশ্যে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কূটনৈতিক জোনে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে ১০ কাঠা করে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার প্লট (নম্বর ০০৯), জয়ের প্লট (নম্বর ০১৫) এবং পুতুলের প্লট (নম্বর ০১৭) ২০২২ সালের বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি এসব বরাদ্দ সংক্রান্ত ছয়টি পৃথক মামলা দায়ের করে দুদক।


