চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত আটজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। কয়েকজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ভোলার দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট এলাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের সঙ্গে অপর যাত্রীবাহী লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার–৯-এর ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের মাঝ বরাবর সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটির দ্বিতীয় তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় লঞ্চের পাশের অংশে অনেক যাত্রী অবস্থান করছিলেন। ধাক্কার তীব্রতায় বহু যাত্রী নদীতে ছিটকে পড়েন। নিহত নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর দুই পুরুষ যাত্রী ঘটনাস্থলে অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে। এ সময় ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী–৯ লঞ্চ দ্রুত এগিয়ে এসে অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
অন্যদিকে নিহতদের মরদেহ ও গুরুতর আহত যাত্রীদের নিয়ে জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। স্থানীয় জেলে ও নৌযান শ্রমিকদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ।


