অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিষয়গুলো হলো জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণ করবে। কোন ধরনের রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে উঠবে, তা নির্ভর করবে গণভোটের ফলের ওপর।
তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার দিক নির্ধারিত হবে। সরকার একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পর্যবেক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিজয় দিবস প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জিত হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ ও বীর যোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
ড. ইউনূস বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কারণে স্বাধীনতার চেতনা ম্লান হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভয় বা সন্ত্রাস দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।
তরুণদের রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণরা নতুন বাংলাদেশের প্রধান শক্তি। নির্বাচন সামনে রেখে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি জানান, পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভোট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ভোট কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাষ্ট্র গঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ভোটের ওপর নির্ভর করছে নাগরিক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
তিনি রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিযোগী হিসেবে দেখার আহ্বান জানান, শত্রু হিসেবে নয়। ভোট ডাকাতি করলে তা জনগণের অধিকার হরণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথযাত্রার একটি ঐতিহাসিক দলিল। এ সনদের সংস্কার বাস্তবায়নে জনগণের মতামত অপরিহার্য।
তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় গঠন করা হয়েছে। এটি ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


