দক্ষিণ সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
এই হামলায় আরও আটজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।
শনিবার রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে আইএসপিআর জানায়, হামলার পর ওই এলাকায় সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।
রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে আইএসপিআরের পরিচালক লে. কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ সুদানের কর্ডোফান এলাকায় জাতিসংঘের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য জানায় স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র।
দক্ষিণ সুদানের সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পৃথক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ।
তিনি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান।
নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
আহত শান্তিরক্ষীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, শহীদ শান্তিরক্ষীরা জাতির গর্ব।
তিনি আহত সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও শোক প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থানীয় অবদানকারী দেশ।
এ পর্যন্ত মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছে


