জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সকালের প্রথম থেকেই কবরস্থান এলাকায় সিআইডির দল উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করে। মরদেহগুলো উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এরপর ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে পুনরায় দাফন করা হবে।
ছিবগাত উল্লাহ বলেন, এই কবরস্থানে নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় শায়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তখন যাচাই করা হয়নি। তাই তাদের পরিচয় উদঘাটন করা জাতির প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ওএইচসিএইচআরের সহায়তায় আর্জেন্টিনার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার ঢাকা এসে কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং অজ্ঞাত শহীদদের পরিবারও আবেদন করেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত মরদেহ শনাক্তে ইতিমধ্যে ১০ জন আবেদন করেছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শহীদের সংখ্যা ১১৪ জনের বেশি হতে পারে।
সিআইডি প্রধান জানান, সব মরদেহের পোস্টমর্টেম ও ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। পরিচয় শনাক্ত হলে পরিবার চাইলে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে ভবিষ্যতে যে কেউ আবেদন করলে পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে। সিআইডির হটলাইন নম্বর শিগগিরই জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
গত ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলামের আবেদনের পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১১৪টি মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত অজ্ঞাত ১১৪ জনকে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। এবার তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতেই সিআইডির এই উদ্যোগ।


