অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে ‘পক্ষপাতদুষ্টতা’ রয়েছে উল্লেখ করে এই সরকার দিয়ে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সরকারের আচরণ নির্বাচন ঘিরে শঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আন্দোলনরত আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর দিন সংবাদ সম্মেলন ডেকে তারা প্রতিক্রিয়া জানান।
ডা. তাহের বলেন, পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত একটি রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে কি না—এ নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তিনি সেই আশঙ্কার উৎস বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার সচেতন বা অচেতনভাবে একটি দলের স্বার্থে কাজ করছে। সংস্কার কার্যক্রম গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার ঘটনাকে তিনি সেই প্রক্রিয়ার শুরু হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামায়াত নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে একটি দলের দাবিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, সরকার এখন আর নিরপেক্ষ নেই এবং একটি দলকে সুবিধা দিতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার তিনজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ করেন ডা. তাহের। তিনি দাবি করেন, এই তিনজন দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু হতে দিচ্ছেন না।
ডা. তাহের বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার সে বিষয়ে মনোযোগী নয়। বরং কয়েকজন উপদেষ্টার মাধ্যমে প্রশাসনকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। একটি বিশেষ দলের লোকদের নিয়োগসহ প্রশাসনে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের স্থানান্তরের অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকবে না। তার মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে দেশের জন্য বিপর্যয় ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আট দল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়। তিনি বলেন, রোজার আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


