ঢাকায় আজ আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বির উত্তাপ। জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। প্রতিযোগিতার বিচারে ম্যাচটি নিয়ম রক্ষার হলেও দুই প্রতিবেশীর ফুটবল লড়াই সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব পায়। তাই সমর্থকদের প্রত্যাশা, আবেগ ও উত্তেজনা মিলিয়ে আজকের ডার্বি নতুন রঙে রাঙাবে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও ভারত সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’ থেকে বিদায় নিয়েছে। মার্চে শিলংয়ে প্রথম লেগে বাংলাদেশ ভালো খেলেও গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে যায়। সেদিনই জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া হামজা চৌধুরী নজর কাড়েন তাঁর পারফরম্যান্সে। লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার এখন বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা। জাতীয় দলে তাঁর চার গোলের পরিসংখ্যান তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার আলোচিত ফুটবলারদের একজন করে তুলেছে।
হামজার সঙ্গে দারুণ রসায়ন গড়ে তুলেছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। নেপালের বিপক্ষে জামালের ভলি থেকে আসা বলেই দুর্দান্ত গোল করেছিলেন হামজা। আজকের ম্যাচে ভারতও রেখেছে বিশেষ পরিকল্পনা। দল নিয়ে ঢাকায় এসেছে অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী রায়ান উইলিয়ামস। তবে অস্ট্রেলিয়া ফুটবল ফেডারেশনের ছাড়পত্র না আসায় তাঁর মাঠে নামা অনিশ্চিত।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জামাল বলেন, এটি আবেগঘন এবং হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। বছর শেষ হওয়ার আগে জয় পাওয়া দলের জন্যই নয়, সমর্থকদের জন্যও ইতিবাচক হবে। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত অনেক এগিয়ে—১৩৬ নম্বর, আর বাংলাদেশ ১৮৩তম। তবু এই ব্যবধানকে সেফ কেবল সংখ্যা হিসেবে দেখছেন জামাল। তাঁর মতে, ম্যাচে ফ্রি কিক, হলুদ কার্ড ও স্লেজিং—সবই থাকবে। তবে তিনি এটিকে স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন।
বাংলাদেশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বলেন, দুই দেশের লড়াইয়ে আবেগ স্বাভাবিক। তবে দলের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান দল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। তাই ভারতের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। শেষ মিনিট পর্যন্ত মনঃসংযোগ ধরে রাখতে বিশেষ ক্লাস করানো হয়েছে খেলোয়াড়দের। রাকিব হোসেন, সাদ উদ্দিন, তপু বর্মণ ও শমিত সোমরা সবাই প্রস্তুত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার।
আজ জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরপুর থাকবে—এটাই অনুমেয়। দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি তাই আরও একবার রোমাঞ্চ জাগাতে প্রস্তুত।


