থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক কমিটির এক কর্মকর্তার প্রকাশ্য অপমানের ঘটনায় একাধিক প্রতিযোগী মঞ্চ ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মিস ইউনিভার্স, ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কায়ার থেইলভিগ।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) প্রতিযোগিতার প্রাক্-ইভেন্টে। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে দায়িত্বে থাকা মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ড–এর পরিচালক নাওয়াত ইটসারাগ্রিসিল ফেসবুক লাইভে মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোস্ককে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন। অভিযোগ ছিল, ফাতিমা নাকি থাইল্যান্ড প্রচারণায় অংশ নেননি।
লাইভে নাওয়াত বলেন, ‘মেক্সিকো, তুমি কোথায়? শুনেছি তুমি থাইল্যান্ডের কিছুই সমর্থন করছ না।’ এরপর তিনি ফাতিমাকে ‘বোকা’ বলে সম্বোধন করেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। উত্তরে ফাতিমা শান্তভাবে বলেন, ‘আপনি আমাকে একজন নারী হিসেবে সম্মান করছেন না।’
এই উত্তরে ক্ষুব্ধ হয়ে নাওয়াত নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ দেন ফাতিমাকে বাইরে বের করে দিতে। কিন্তু সেই মুহূর্তে উপস্থিত অন্যান্য প্রতিযোগীরা একে একে ফাতিমার পাশে দাঁড়ান। কেউ সরাসরি প্রতিবাদ জানান, কেউ অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান।
বর্তমান মিস ইউনিভার্স ভিক্টোরিয়া কায়ার থেইলভিগ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা শুধু এক প্রতিযোগীর বিষয় নয়, নারীর সম্মানের প্রশ্ন। একজন নারীকে অপমান করা হলে আমরা সবাই অপমানিত হই। তাই আমি এই মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’
ঘটনার পর মিস ইউনিভার্স সংস্থা এক বিবৃতিতে নাওয়াতের আচরণকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানায় এবং তার দায়িত্ব সীমিত করে দেয়। সংস্থার প্রেসিডেন্ট রাউল রোচা বলেন, ‘নারীর মর্যাদা ও সম্মান লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে নাওয়াতের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বিতর্কের মধ্যেও প্রতিযোগিতা চলছে। বুধবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পর্ব, আর ফাইনাল রাউন্ড হবে আগামী ২১ নভেম্বর।
পরে নাওয়াত ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলাম। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, বিশেষ করে উপস্থিত থাকা ৭৫ প্রতিযোগীর কাছে।’
অন্যদিকে মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোস্ক নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানান, ‘আমি ভয় পাই না কথা বলতে। আমি নারীদের প্রতিনিধি হয়ে এসেছি, তাদের অধিকার রক্ষার কথা বলতেই আমি এই মঞ্চে।’
এই ঘটনার পর নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আচরণবিধি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।


